নোয়াখালীর রাজনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে মোহাম্মদ আলীর মেসেজ।।

নোয়াখালী নিউজ সারাদেশের খবর হাতিয়া নিউজ
Spread the love


অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দলীয় রাজনীতির গোড়াপত্তন এর একজন প্ল্যানার একজন মাস্টারমাইন্ড;বলছি নোয়াখালী রাজনীতির কথা, বলছি একজন নেতার কথা।হুম তিনি আর কেউ নন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জেলা আওয়ামীলীগ এর সম্মেলনের তার বক্তব্য ( ২৯/৩/২২ ইং )  ইতিমধ্যে ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলে। পাঠক সমাজের জন্য তা বিশ্লেষণ এর দরকার বটে।

মোহাম্মদ আলীঃ(বক্তব্যের চুম্বক অংশ)
সুবর্ণজয়ন্তীতে দীর্ঘদিন পর এরকম একটি সমাবেশ এর গুরুত্ব এবং ক্রেডিট তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন,”আজকের দিনটি একটি ঐতিহাসিক।’
” বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের নামে স্লোগান হচ্ছে। এটা একটা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।এটা রাজনৈতিক কোন্দল নয়।” এই তিনটি লাইনের মধ্যে নেতার আসল মেসেজ লুকায়িত।পরের লাইনেই সেটার ইংগিত দিয়েছেন”আমরা এই দলটিকে গণমুখী করবো।”
নোয়াখালীর রাজনীতিতে একরামুল চৌধুরীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন,”এই দলটা একটা কুক্ষিগত একটা শয়তানের একটা বদমায়েশের আখড়া ছিলো। এই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অফিসে ফেসবুক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা দেখেছেন,ঘোষণা দিয়েছে ওমুক উপজেলার কেউ আসলে মারপিট করবা,ওমুকেরে বেজ্জত করবা,তার কাজ মুরুব্বীদের বেজ্জত করা।”
হাতিয়ায় তিনি শান্তির রাজনীতির জন্মদাতা স্মরণ করিয়ে জেলায় একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন লজিক্যালি।
“আজকে আমাদের উপজেলায় একজন মেম্বার চেয়ারম্যান আমাদের বাহিরে নাই।আমার হাতিয়াতে কোন কাজ নাই।জেলা আওয়ামীলীগ যখন যে উপজেলায় যে জায়গায় যে দ্বায়িত্ব দিবে আমি এই দ্বায়িত্ব পালন করবো ইনশাআল্লাহ। ”
পার্টি অফিসে নাম মাত্র মিটিং না করে যে কোন উপজেলায় যে কোন কঠিন দ্বায়িত্ব পালনে অর্থাৎ পরবর্তী আসন্ন নির্বাচনের আগে দলকে গোছানোর জন্য একজন দ্বায়িত্বশীল এর মত মেসেজ দিয়ে গেছেন।
উপস্থিত জনগনের মতামত নিয়ে একরামুল চৌধুরীকে বাদ দিয়ে একটা ব্যালেন্সড কর্তৃপক্ষ গঠনে তিনি বলেছেন
“এই লোকটি সেলিম সাহেবকে বাবার সমতুল্য বলে, প্রফেসর হানিফ সাহেব কে বাবার সমতুল্য বলে,ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বাবার সমতুল্য বলে আবার কি কি বলে এই বিচার আমি আপনাদের কাছে দিলাম।জাতীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের কে সুযোগ দিন।এখনো দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে মানুষ।উনি কি আওয়ামীলীগে আছে কি নায়?” এরপর একজন নেতার মতই হুংকার দিয়েছেন বুদ্ধিদীপ্ত কন্ঠে
“যদি না থাকে আমাদের নেতৃ প্রধানমন্ত্রীর ছায়া তার থেকে সরে যায় ০১ মিনিট রাস্তায় দাড়ানোর মত এই সদর সুবর্ণচরের কোথায় ও অবস্থা নাই।”
এরকম একটা সমাবেশ আয়োজক হিসেবে নিজের সফলতা দাবি করে বলেছেন,
“মানুষ ৩-৪০০ দিয়ে মিটিং একটা আরম্ভ করে দেয়।এরকম মাঠে ময়দানে কখনোতো এরকম মিটিং করেনা?”
সমাবেশে নিজের সম্পৃক্ততা প্রমান করে দিয়ে পুরো বক্তব্যের আসল কথাটা মনে হয় এটাই -“আজকে আমার আনন্দে বুক ভরে উঠে এক এক পক্ষ এক এক মিছিল নিয়ে আসছে।এটা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলবেই।এই প্রতিযোগিতাতে যার সম্পৃক্ততা আছে, যার গ্রহনযোগ্যতা আছে সেই নেতৃত্ব দিবে।এ হলো আওয়ামীলীগের রাজনীতি।”

“আজকের এই জনসভা একটা মেসেজ এ জনসভা আর নগদ চৌধুরীকে চায়না।নগদ খেতে চায়না।নগদ চৌধুরীরকে প্রত্যাখ্যান করতে কারা কারা রাজি আছেন হাত তুলে দেখান।

আজকে কথা দিলাম যে কোন উপজেলায় যে কোন জায়গায় যে কোন সমস্যায় ইনশাআল্লাহ নিবিড়ভাবে কাজ করবো।এই দলকে এই আওয়ামীলীগকে বঙ্গবন্ধুর ঘাঁটি শেখ হাসিনার ঘাঁটি নৌকার ঘাঁটি এর বাহিরে আর কোন কিছুই থাকবেনা। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।খোদা হাফেজ।”

রাজনৈতিক অনেক বক্তৃতার মধ্যে এটি অন্যতম একটি সেরা বক্তৃতা।নোয়াখালিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সত্য ও সুন্দরের পক্ষে দলীয় রাজনীতির উত্থানে কাজ করার প্রতি গুরাত্বরোপ করেছেন।নোয়াখালীর রাজনৈতিক বিষয়াবলী যতটানা সাংগঠনিক তার চেয়ে বেশী ব্যক্তিগত রেশারেশী। দলের যে কোন দূর্দিনের জন্য এসব রেশারেশী বিপদ ও উদ্দেগজনক।
মোহাম্মদ আলী সাহেবের বক্তৃতা প্রধান ৩ টি দিক হলো নোয়াখালীর রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলার মূল কারন তুলে ধরা।এবং দলীয় রাজনীতির চর্চা।সামনের ইলেকশনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে আওয়ামীলীগকে একটা শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার রুপরেখাও ছিল তার বক্তব্যে।যারা ব্যক্তি রাজনীতির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য তার নিজস্ব প্রত্যয় ও দলীয় রুপরেখার একটা মেসেজ কেন্দ্র কে দিয়েছেন।

বর্তমানে একরামুল চৌধুরী দলীয় গণতান্ত্রিক পক্রিয়ার বাহিরে দলকে ভুল পথে পরিচালিত করছে বলে দাবি করেন এই বর্ষীয়ান নেতা।ফেসবুকে ওবায়দুল কাদের সহ সিনিয়রদের নিয়ে কটূক্তি দলীয় চেইন অব কমান্ড নষ্ট করেছেন বলেও তার দাবি।নোয়াখালীর রাজনীতি এখন যে অস্থিরতায় আছে তা থেকে বের হওয়া দরকার। হাতিয়ায় সাংগঠনিক রাজনীতিতে অনেক এগিয়ে আছে এবং হাতিয়ায় শান্তির নিশ্চয়তায় তার ভূমিকা উল্লেখ করে জেলা কমিটিতে তার দ্বায়িত্ব পেলে কাজ করতে পারবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ধ্বনিত হয়েছে।হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত হাজার হাজার কর্মীদের উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে সম্মেলনকে প্রানবন্ত করার কারিগর আরো একবার প্রমান করেছেন দলীয় রাজনীতি কি। উল্লেখ্য বর্তমানে আহবায়ক কমিটি দিয়ে জেলা কমিটি চলছে। এখন দেখার বিষয় এই ক্যারিশম্যাটিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এই বক্তব্য তথা মেসেজ কেন্দ্র পর্যন্ত কেমন আলোড়ন সৃষ্টি করে সেটাই আগামীর চর্চার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *