হাতিয়া দ্বীপ থেকে ১০০ তম লাইভ ক্লাসের মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রাথমিকের শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহমেদ

হাতিয়া নিউজ

হাতিয়া প্রতিনিধি : ভার্চুয়াল জগতে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে পুরো নোয়াখালী জেলাসহ সারাদেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। করোনার শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদানসহ উপজেলার অন্যান্য সহকর্মীদের অনলাইন ক্লাসে পাঠদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এতে পুরো উপজেলার প্রায় ৩০ জন শিক্ষক অনলাইনে নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছেন।যা সারাদেশেই ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছেন এবং প্রশংসিত হয়েছেন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই আলোকিত শিক্ষক।

২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তিনি মানবিকতা, আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও নিত্য নতুন উদ্ভাবনী সৃষ্টি দিয়ে তার স্কুল, উপজেলা, জেলা এবং সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।
চলতি বছরের ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়লে দেশজুড়ে আতংক, উৎকন্ঠা এবং ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে বিদ্যালয়গুলো গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।শিশুদের পাঠদানের লক্ষ্যে সংসদ টিভিতে ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নেয় সরকার।

পাশাপাশি তিনি চিন্তা করলেন যে, যেহেতু বর্তমানে প্রত্যেক পরিবারে এখন এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে এবং অনেকেই ফেসবুক ইউজ করে এতে যদি অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্লাসগুলো পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে কিছুটা হলে ও পড়ালেখার ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।এছাড়া শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহমেদ হাতিয়া উপজেলার কমিউনিটি রেডিও “রেডিও সাগরদ্বীপ FM 99.2 তে নিয়মিত পাঠ পরিচালনার মাধ্যমে দ্বীপের শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব মোর্শেদ মহোদয় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্বীপ উপজেলার শিক্ষকদের লাইভ, রেকর্ডেড ক্লাস পরিচালনায় সহায়তা করে যাচ্ছেন এই শিক্ষক। ক্লাস পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি Hatiya Online Primary School নামে একটি ফেসবুক পেইজ ওপেন করে অন্য সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নিয়মিত লাইভ ক্লাস পরিচালনা করে যাচ্ছেন।যা হাতিয়া দ্বীপসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে ক্লাসগুলো পৌঁছে যাচ্ছে।
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তার প্রতিভার আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছেন সারাদেশের লুকায়িত কোমলমতী প্রতিভাগুলোকে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ মোসলে উদ্দিন বলেন,করোনা সংকটে সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও পর্যুদস্ত। এমন সংকটে আমরা আগে কখনো পড়িনি। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ দেশ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।তেমনি প্রাথমিক শিক্ষাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের এ সংকটে হাতিয়া উপজেলাসহ বাংলাদেশের যে সকল শিক্ষকগণ শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছেন সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সকল শিক্ষককে এ করোনা সংকটে অনলাইন কার্যক্রমে এগিয়ে আসলে শিক্ষার যে ঘাটতি তা অনেকাংশে কমে আসবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব ভবরঞ্জন দাস বলেন করোনাকালে শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহমেদে -এর অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি বেশ সময়োপযোগী । অল্প সময়ে তিনি হাতিয়া উপজেলার অনেক শিক্ষককে অনলাইনে ক্লাসে সংযুক্ত করেছেন যা শিক্ষকদের Skill Develop এ যথেষ্ট অবদান রাখছেন।তিনি স্বল্প সময়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।আমি তার সাফল‌্য কামনা করি।

হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মাহবুব মোর্শেদ লিটন সাহেব জানান, জাতির এ সংকট মূহূর্ত্বে হাতিয়া উপজেলার মতো একটি বিচ্ছন্ন দ্বীপ থেকে লাইভ ক্লাস পরিচালনা করে হাতিয়া দ্বীপসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অন লাইন ক্লাসের মাধ্যমে আমাদের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের মাঝে যেভাবে শ্রেণি পাঠদান পৌঁছে দিচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। জাতির এ দুঃসময়ে এগিয়ে আসা সকল সকল অনলাইন শিক্ষকদের প্রতি শুভকামনা জানান।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *